রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
ভযেস নিউজ ডেস্ক:
ইতোমধ্যে দেশবাসীর নজর কেড়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় নির্মিত হয়েছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন ছয়তলাবিশিষ্ট আইকনিক রেলস্টেশন। ২৯ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা ১ লাখ ৮৭ হাজার বর্গফুটের রেলস্টেশনটি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আইকনিক স্টেশনের স্থপতি একজন বাংলাদেশি, তাঁর নাম মো.ফয়েজ উল্লাহ।
২৯ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই আইকনিক রেলস্টেশন ভবনটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭ বর্গফুটের। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার (ফাস্ট ট্র্যাক) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মকর্তারা বলেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ছয়তলা ভবনের রেলস্টেশনের সামনে খোলা মাঠে তৈরি হয়েছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন একটি ফোয়ারা। যাত্রীরা ঝিনুক ফোয়ারা দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করবেন। তারপর চলন্ত সিঁড়ির মাধ্যমে পদচারী–সেতু হয়ে উঠবেন ট্রেনে। আবার ট্রেন থেকে নেমে ভিন্ন পথে বেরিয়ে যাত্রীরা পা বাড়াবেন সমুদ্রসৈকতের দিকে। গমন ও বহির্গমনের জন্য তৈরি হয়েছে পৃথক দুটি সড়ক। আছে গাড়ি পার্কিংয়ের পৃথক তিনটি বড় জায়গা।
ভবনের পূর্ব পাশে নির্মিত হয়েছে ৮০ ফুট লম্বা পদচারী–সেতু। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় পৃথক তিনটি চলন্ত সিঁড়ি। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভবনের উত্তরে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ মিটার প্রস্থের ৩টি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
মূল ভবনের নিচতলার রাখা হয়েছে টিকিট কাউন্টার, অভ্যর্থনা কক্ষ, লকার, তথ্যকেন্দ্র, মসজিদ, শিশুদের বিনোদনের জায়গা, প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ ও পদচারী–সেতুতে যাতায়াতের পথ। দ্বিতীয় তলায় শপিংমল, শিশুযত্ন কেন্দ্র, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি। তৃতীয় তলায় ৩৯ কক্ষবিশিষ্ট তারকা মানের হোটেল, চতুর্থ তলায় রেস্তোরাঁ, শিশুযত্ন কেন্দ্র, কনফারেন্স হল ও কর্মকর্তাদের কার্যালয়।
ইতোমধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে এই আইকনিক রেল স্টেশনের স্থপতি সম্পর্কে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কথা হচ্ছে। স্থপতি মো.ফয়েজ উল্লাহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষতা করেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার ভলুমেজেরো, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্থপ্তি তিনি। এছাড়াও ভিস্তারা আর্কিটেক্ট এর সহ প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। তিনি বুয়েট থেকেই স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ফয়েজ উল্লাহ ব্যাক্তিগত জীবনে দু’সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রীর নাম মোরশেদা নাসমিন।
মো.ফয়েজ উল্লাহর প্রথমদিকের নির্মাণের মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেল ও গ্রামীনফোণের প্রধান অফিসটিও তার নকশায় করা।
কক্সবাজার স্টেশন নির্মাণ প্রসঙ্গে আইকনিক স্টেশনের স্থপতি মো.ফয়েজ উল্লাহ বলেন, কক্সবাজার রেলস্টেশন ডিজাইন করার সময় একটা অনুপ্রেরণা নিই। ঝিনুক ও শামুকের গঠনটা বাইরে থাকে, আর বাকি শরীরের অংশটুকু ভেতরে আবৃত থাকে। আমরা সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে পুরো রেলস্টেশনটাকে একটা ছাউনি দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
ভয়েস/আআ